ইউএক্স বা ইউজার এক্সপেরিএন্স

May 27, 2016

একটি মোবাইল কেনার সময় আমরা কি করি? বাজেট ঠিক করি, কতো জিবি স্পেস, কতো মেগাপিস্কেল ক্যামেরা, ব্যটারির ব্যাকআপ টাইম, স্ক্রিন সাইজ ইত্যাদি নিয়ে মোটামুটি একটা এক্সপেকটেশন দাড় করাই। অনলাইনে ঘাটাঘাটি অথবা ফ্রেন্ডদের জিজ্ঞেস করি – ১০/১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো সেট কোনটি? পছন্দমতো উত্তর যাচাই করে, চলে যাই মার্কেটে। ফোন কিনে বাসায় এসেই শুরু হয় এক্সপ্লোরেশন আর যাচাই – যেমনটি চেয়েছি তেমনই পেলাম? নাকি, না? ভালো হলে খুশি মনে চার্জে দিয়ে পরদিন থেকে গুণগান। সেট খুব ভালো। অন্যদের রিকমেন্ড করা শুরু করি।

ইউএক্স হলো ইউজার এক্সপেরিএন্স কথাটির সঙ্খিপ্ত রূপ, যার অর্থ “ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা”।  একটি প্রোডাক্ট, সিস্টেম অথবা সার্ভিস ব্যবহার করার আগে, ব্যবহার করার সময় ও ব্যবহারের পরে সেটি সম্পর্কে একজন ইউজার (বা ভোক্তার) মনে সেই পণ্য সম্পর্কে যে ধারণা তৈরী হয়, তাকেই ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বা ইউজার এক্সপেরিএন্স বলে।

মোবাইলটি ইউজ (ব্যবহার) করে আপনার ভালো লাগছে, অন্যকেও কিনতে বলছেন। কারন, এটি আপনার জীবনে মূল্যযোগ করছে। যেসকল পণ্য ব্যবহার করে আমাদের জীবনে মূল্যযোগ হয়, সেগুলোকে আমরা মূল্যবান পণ্য বা “ভ্যাল্যুয়েবল প্রোডাক্ট” বলি। কোন প্রোডাক্ট’কে ভ্যাল্যুয়েবল হতে হলে সেটির কতোগুলো গুণাবলি থাকা আবশ্যকঃ

  1. উপকারীঃ পন্যটিকে উপকারী হতে হবে। আমাকে আমার উদ্দেশ্য সাধনে এটি কতোটুকু ভুমিকা রাখছে সেটাই এর উপকারিতা।
  2.  ব্যবহারযোগ্যঃ অনেক কিছুই উপকারী, কিন্তু আমাদের তা কষ্ট করে ব্যবহার করতে হয়। যেমন আমাদের দেশের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম বা যোগাযোগ ব্যবস্থা। এগুলো উপকারী, কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নয়।
  3.  দৃশ্যমানঃ পণ্যটির উপকারিতা সহজেই খুজে পাওয়া যেতে হবে। আমার যা দরকার তা এর মধ্যে আছে, কিন্তু খুঁজে পেলাম না, এধরনের পণ্য দিয়ে আমরা উপকৃত হই না।
  4. মনোহরীঃ শৈল্পিক রুচিবোধ থাকতে হবে। খুব আহামরি ও চাকচিক্যপূর্ন হতেই হবে, তা হয়। ডিজাইন  মিনিমাল ও রুচিসম্মত হতে হবে। দেখলেই যেন মন ভরে যায়, ছুঁতে ইচ্ছে করে।
  5. বিশ্বাসযোগ্যঃ পন্যটিতে যে তথ্য দেয়া হচ্ছে, তার বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে। স্বাস্থ্য নিয়ে বলছি, কিন্তু কোন রেজিশটার্ড চিকিৎসক অথবা গবেষণার রেফারেন্স না দিলে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
  6. প্রবেশগম্যঃ  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বিশ্বের ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ কোন না কোন প্রতিবন্ধিতায় ভোগে। আপনার প্রোডাক্টটি যদি প্রবেশগম্য না হয়, এই মানুষগুলোর জীবনে তা কোন মূল্যযোগ করতে পারবেনা। তাই আপনার প্রডাক্টকে অবশ্য প্রবেশগম্য বা এক্সেসিবল হতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৫০৮ রিহেবিলিয়েশন এক্ট, যুক্তরাজ্যের ডিজএবিলিটি ডিস্ক্রিমিনিশন এক্ট উল্যেখযোগ্য। বাংলাদশের প্রতিবন্ধির অধিকার ও সংরক্ষন আইন ২০১৩ তে আইসিটি পন্যকে এক্সেসিবল বা প্রবেশগম্য করার উপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রবেশগম্যতা আর হেলাফেলার কিছু নয়।

আমরা জানলাম ইউজার এক্সপেরিএন্স কি, এবং  একটি পণ্য/সেবা/সিস্টেম কিভাবে মানুষের জীবনে মুল্যযোগ করতে পারলে তাকে আমরা ভ্যাল্যুয়েবল প্রডাক্ট/সার্ভিস/সিস্টেম বলি।

ভ্যাল্যুয়েবল এক্সপেরিএন্স ডিজাইন করার পন্থাগুলো সম্পর্কে আলোচনা পরের পর্বগুলোতে করা হবে।

পড়ুনঃ ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন বা UI Design কি?