ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন বা UI Design কি?

June 12, 2016

সহজ ভাষায় ইউজার ইন্টারফেইস হচ্ছে ইউজার আর সিস্টেমের মাঝের একটা লেয়ার। যার মাধ্যমে ইউজার আর সিস্টেম নিজেদের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদান করে। ইন্টারফেইস বিষয়টা আমরা যেভাবে দেখি, তা সেরকম নয়। মনে করুন ডেক্সটপ, ফোল্ডার, ক্যাল্কুলেটর – এগুলো কি আসলেই আছে? হার্ডড্রাইভ ভাঙলে সেগুলো দেখা যাবে? না। আমি ক্লিক করলাম ফোল্ডার খুলে গেল। এটা কি কখনো বন্ধ ছিলো? এ সবকিছুই ঘটছে আমাদের মস্তিষ্কে। আমি ধারনা করছি, তাই হচ্ছে। তাই এগুলোকে কস্পেচুয়াল মডেল বা মেন্টাল মডেল বলা  হয়। ইন্টারফেইস সবসময় দেখা যেতেই হবে তার কোন কারন নেই। অদৃশ্য ইন্টারফেইস ও হতে পারে – যেমন ভয়েস কম্যান্ড, চোখের ইশারা, অঙ্গভঙ্গি দিয়েও অনেক সিস্টেম চলে।

ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন হলো মেন্টাল মডেল ক্রিয়েট করার একটি প্রক্রিয়া। যার বিশাল একটি অংশ জুরে আছে, ইনফরমেশন আর্কিটেকচার, ইউজেবলিটি, ইন্টার‌্যাকশন ডিজাইন, ড্রয়িং, প্রোটোটাইপিং, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন ইত্যাদি। ইউজার রিসার্চ করার পর ইউজারের চাহিদা ও প্রতিক্রিয়া অনুযায়ি উপরোক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব একটা ভালো ইউজার এক্সপেরিএন্স তৈরি করা। ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন এর এই কাজগুলোকে তাদের ধরণ অনুযায়ী এভাবে ভাগ করা যায়ঃ

  1. রিসার্চ বা গবেষণাঃ কি বানাচ্ছি, কার জন্য বানাচ্ছি, কেন বানাচ্ছি, তারা কোথায় থাকে, কিভাবে এটি ইউজ করবে ইত্যাদি গবেষণা করা। এটা সারাক্ষণই করতে হয়। প্রডাক্ট বানানোর আগে, বানানোর সময়, এবং বানানোর পরে।
  2. ডিজাইন বা পরিকল্পনাঃ প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে, ইউজারের জন্য একটা ভালো প্রডাক্ট এর পরিকল্পনা বা ডিজাইন করা।এটি করার সময় আমাদের ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইনের প্রক্রিয়াগুলো সফলতার সাথে অতিক্রম করে আসতে হয়। এই স্টেজে এ এসে যে কাজগুলো করতে হয়ঃ
    1. ইনফরমেশন আর্কিটেকচার ডিজাইনঃ ইউজার কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে, সেগুলোর নাম কি, কিভাবে খুঁজবে ইত্যাদি।
    2. ইন্টার‍্যাকশন ডিজাইনঃ ইউজার-সিস্টেম কমিউনিকেশন কিভাবে হবে সেটা ডিজাইন করার প্রক্রিয়া। এসময় লার্নিং, মেমোরি, কগ্নিশন ইত্যাদি নিয়ে ভাবা হয়।
    3. স্কেচ/ ওয়্যারফ্রেইমঃ কাগজে খসড়া লাইন/দাগ ভিত্তিক ইন্টারফেইস করাকে বলে স্কেচ। আর সেগুলোকেই সফটওয়ার এ মাপজোক করে আঁকাকে বলে ওয়্যারফ্রেইম।
    4. প্রোটোটাইপঃ মুল প্রডাক্ট এর একটা ডেমো বানানো। যা চালিয়ে মূল প্রডাক্টটি কিভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে একটা ধারনা পাওয়া যাবে।
    5. ইউজেবেইলিটি ইভাল্যুয়েশনঃ আসল ইউজারদের নিয়ে এসে প্রোটোটাইপ চালিয়ে দেখা, তারা কোন সমস্যা বোধ করছে কিনা। সমস্যা/কনফিউশন থাকলে তা ঠিক করে নেয়া। ডিজাইনের বিভিন্ন স্তরে ইউজেবেইলিটি ইভাল্যুয়েট করার মধ্য দিয়ে একটা নিয়ার পার্ফেক্ট ইন্টারফেইস তৈরি হয়। ইউজেবিলিটি কে একইসাথে রিসার্চ ডিজাইন বলা যায়।
    6. ভিজ্যুয়াল ডিজাইনঃ একটা প্রডাক্ট দেখতে কেমন, রুচিশীল কিনা, এর মধ্যে শৈল্পিক গুনাবলি আছে কিনা তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে ভিজ্যুয়াল ডিজাইন বলে। ডিজাইন এর এই অংশে কালার/শেড, ফন্ট, ছবি, ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়।
  3. ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলঃ এবার ইমপ্লিমেন্টেশন বা বাস্তবায়ন। যার বেশিরভাগ অংশজুরেই থাকে প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত ব্যবহার।

ইউজার ইন্টারফেইস ডিজাইন নিয়ে আরো আলোচনা করার আশা নিয়ে আজ এপর্যন্তই। ধন্যবাদ।

পড়ুনঃ ইউএক্স কি?